এক বছর সময়ের মধ্যে অভিবাসী শ্রমিকের সংখ্যা কমিয়ে আনতে নতুন একটি আইন পাস করেছে কুয়েত। গত জুলাইয়ে কুয়েতের পার্লামেন্টে এ আইন সর্বসম্মতভাবে পাস হয়। নতুন আইন অনুযায়ী অভিবাসী শ্রমিকের সংখ্যা কমিয়ে আনতে দেশটির সরকারকে এক বছরের সময় দেওয়া হচ্ছে। ফলে আইনটি বাস্তবায়ন হলে বিপাকে পড়ার আশঙ্কায় ভুগছেন দেশটিতে কর্মরত বাংলাদেশিরা। কারণ এ আইনের ফলে কুয়েতে কমতে পারে বাংলাদেশি শ্রমিকের সংখ্যা।
জানা গেছে, অর্থনীতি সক্রিয় রাখা এবং দেশে অভিবাসীদের সংখ্যায় ভারসাম্য আনতেই কুয়েতে নতুন আইন জারি করা হয়েছে। অভিবাসীর সংখ্যা ৩০ শতাংশে কমিয়ে আনতে চাইছে কুয়েত সরকার। এ ছাড়া বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে কুয়েতের জনগণই যেন বেশি সুযোগ-সুবিধা পায়, সে বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতদিন কুয়েতের তেলনির্ভর অর্থনীতির গতিশীলতা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিলেন অভিবাসী শ্রমিকরা। কিন্তু করোনা ভাইরাস মহামারীর কারণে তেলের দাম কমে যাওয়ায় কুয়েতের অর্থনীতিতে ধস নেমেছে। সে জন্যই দেশটি এখন বিদেশি শ্রমিক কমাতে চাইছে। মার্কিন গণমাধ্যম ব্লুমবার্গের
এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন আইনের কারণে অনেক অভিবাসী শ্রমিককেই এখন বাধ্য হয়ে কুয়েত ছেড়ে দেশে ফিরতে হবে। নতুন এ আইন পাসের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপালের মতো দেশগুলোর শ্রমিকরা। নতুন আইনের খসড়ায় আগে বলা হয়েছিল- বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তান ও ভিয়েতনাম থেকে কুয়েতের মোট জনসংখ্যার অনুপাতে মাত্র ৫ শতাংশ শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া যাবে। তবে ভারত থেকে নিয়োগ দেওয়া যাবে ১৫ শতাংশ, শ্রীলংকা, ফিলিপাইন ও মিসর থেকে ১০ শতাংশ। এর বাইরে অন্য দেশ থেকে ৩ শতাংশের বেশি কর্মী নেওয়া যাবে না। অথচ বিশ্বে অভিবাসী শ্রমিকনির্ভর দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম কুয়েত। দেশটির বর্তমান জনসংখ্যা ৪৮ লাখ। গত কয়েক দশকে কুয়েতে পাড়ি জমানো দক্ষ ও অদক্ষ অভিবাসী শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৩৪ লাখ।
যদিও কুয়েতে অভিবাসী ইস্যু অনেক পুরনো বিষয়। দেশটির আইনপ্রণেতারা সম্প্রতি অভিবাসী শ্রমিক কমানোর জন্য সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছিলেন। কোটাব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি সরকারি চাকরিতে কর্মরত অভিবাসীদের কুয়েতিদের দিয়ে প্রতিস্থাপনেরও দাবি তুলেছেন তারা। এমনটি হলে চাকরি হারাবেন অন্তত এক লাখ অভিবাসী। এর আগে গত জুনে কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী শেখ সাবাহ আল খালিদ আল সাবাহ বলেন, দেশে অবস্থানরত অভিবাসীর সংখ্যা ৭০ থেকে ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। তার ওই ঘোষণার পরই সরকার নতুন এই অভিবাসী আইন তৈরির পদক্ষেপ নেয়।















