প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা ও পর্যটন নগরী হিসেবে পরিচিত সিলেট। দেশ-বিদেশে বেশ সুনামও রয়েছে ৩৬০ আউলিয়ার পূণ্যভূমি সিলেটের। নগরীর নিরাপত্তায় আইটি ক্যামেরা চালুর পর এবার ফ্রি পাবলিক ওয়াইফাই সেবা চালুর মাধ্যমে দেশের প্রথম ডিজিটাল সিটির খ্যাতি অর্জন করে সিলেট। শুধু কি তা! খুঁটি নেই। একসঙ্গে বিদ্যুতের তারও নেই। নেই তারের ঘিঞ্জি পরিবেশ। এ যেন সিলেটের আরেক নতুন সৌন্দর্য, নতুন পরিবেশ। এমন দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্যের দেখা মিলবে কেবল সিলেটেই।
সারাদেশে এই প্রথম সিলেটের বিদ্যুৎ লাইন গেলো ভূগর্ভে। আর সিলেট নগরের হযরত শাহজালাল (র.) দরগাহ সড়ক এই জঞ্জাল থেকে প্রথম মুক্ত হয়। বর্তমান সরকারের আমলে দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি খ্যাতি অর্জন করে সিলেট। তারমধ্য উল্লেখ্যযোগ্য হচ্ছে এগুলো।
সিলেট নগরীতে আরও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার লক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. একে আব্দুল মোমেনের প্রচেষ্টায় দ্বিতীয় লন্ডন খ্যাত সিলেটে হচ্ছে উন্নয়নমূলক কাজ। বর্তমানে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে রাস্তার ডিভাইডারে লন্ডনের রাস্তার মতো হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন কাজ। বাড়ছে নগরীর সৌন্দর্য।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় এসব উন্নয়নমূলক কাজের তদারকি করছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন।
এদিকে সিলেট সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সিলেট নগরীতে হকারমুক্ত ফুটপাত গড়ে তুলতে ঘোষণা দিয়ে ছিলেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। ধাপে ধাপে দীর্ঘ আলাপ আলোচনা করে নগরীর বেশ কিছু এলাকাকে হকারমুক্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ফুটপাত দখল করে থাকা হকারদের পুনর্বাসন করা হয়েছে।
এবার সিলেট নগরীর প্রাণকেন্দ্রকে যানজটমুক্ত রাখতে চৌহাট্টা-জিন্দাবাজার-বন্দরবাজর সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশ। একই সঙ্গে ওই সড়কে অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। মুক্ত ফুটপাত হওয়ায় এখন সড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে রিকশা, ভ্যান ও ঠেলাগাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
গতকাল সোমবার ও রোববার দিনভর চলে অভিযান। এর ফলে ওই এলাকায় যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরে আসে। তবে গতকাল জিন্দাবাজারে রিকশা চলাচলের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়ে রিক্সা চালকরা চৌহাট্টা সড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করে। এসময় ৪ রিকশা চালককে আটক করে পুলিশ।
সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, সম্প্রতি চৌহাট্টা-জিন্দাবাজার-বন্দরবাজার সড়কে রিকশা, ভ্যান ও ঠেলাগাড়ি চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেয় সিটি করপোরেশন। নতুন বছরের প্রথম দিন শুক্রবার থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকরের নির্দেশনা ছিল। নির্দেশনা মানতে সাইনবোর্ডও লাগানো হয়েছিল। তবে গত শুক্রবার সকাল থেকে চৌহাট্টা-জিন্দাবাজার-বন্দরবাজার সড়কে অন্যান্য দিনের মতোই রিকশা চলাচল করতে দেখা গেছে। এ অবস্থায় সিটি করপোরেশন এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ট্রাফিক পুলিশকে নিয়ে মাঠে নামবে বলে জানিয়েছিল।
সিটি করপোরেশনের একদল কর্মী ওই এলাকার তিনটি মোড়ে রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে। ওইদিন বিকেলে সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও মহানগর পুলিশের (ট্রাফিক) উপকমিশনার ফয়সল মাহমুদের নেতৃত্বে দুটি দল রিকশা চলাচল বন্ধের নির্দেশনা নিয়ে মাঠে তৎপরতা চালায়। এ সময় ব্যস্ত এলাকা পুরোটা রিকশাবিহীন হয়ে পড়লে অন্যান্য যান চলাচলে স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করে।
সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, জিন্দাবাজার-বন্দরবাজার থেকে চৌহাট্টা মোড় পর্যন্ত সড়কটিতে একমুখী (ওয়ানওয়ে) যান চলাচল থাকলেও সম্প্রতি সড়ক বিভাজক স্থাপন করে দ্বিমুখী যান চলাচলের ব্যবস্থা করে সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সড়ক বিভাজকের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। এ সড়ক এলাকায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধসহ সরকারি বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা আছে। এ ছাড়া নগরের প্রধান প্রধান বিপণিবিতানও জিন্দাবাজারসহ এ এলাকার আশপাশে অবস্থিত। পুরো এলাকার বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণ করে ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ সরবরাহ করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।
এব্যাপরে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানান, চৌহাট্টা-বন্দরবাজার-জিন্দাবাজার সিলেট নগরীর প্রাণকেন্দ্র। এ এলাকা থেকে ইতিমধ্যে ফুটপাত দখল করে থাকা হকারদের পুনর্বাসন করা হয়েছে। মুক্ত ফুটপাত হওয়ায় এখন সড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে রিকশা, ভ্যান ও ঠেলাগাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। কেন্দ্রস্থলের এলাকাকে একটি আদর্শ স্থানে রূপ দিতেই এই চেষ্টা চালানো হয়। ট্রাফিক পুলিশকে নিয়ে এই তদারকি অব্যাহত রাখা হবে।
এ সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধ করে গাড়ির অবৈধ পার্কিং বন্ধ করা প্রয়োজন উল্লেখ করে মেয়র আরও বলেন, ‘এ রাস্তায় শুধু রিকশা বন্ধ করলে হবে না। রিকশা বন্ধ করে যদি দেখা যায়, সবাই অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং করে রেখে দিয়েছেন, তাহলে আমাদের কষ্ট আর চেষ্টা সফল হবে না। তাই একটি যানজটমুক্ত স্বস্তিদায়ক নগরী গড়তে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। সবাই নিজ নিজ গাড়ি মার্কেটের নির্দিষ্ট পার্কিংয়ে রেখে সহযোগিতা করবেন বলে আশা করছি।’















