থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত সুন্দরী প্রতিযোগিতার আসর ‘মিস গ্র্যান্ড ইন্টারন্যাশনালের’ জমকালো আয়োজনে অংশ নিয়েছেন মিস মিয়ানমার হান লায় (২২)। যদিও বিজয়ী হননি, তবুও প্রতিযোগিতার সবথেকে আবেগী নারী হিসেবে স্মরিত হবেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার আন্তর্জাতিক মঞ্চকে মিয়ানমারের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের ক্ষেত্র বানিয়েছিলেন হান লায়। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবি নিয়ে তিনি সোচ্চার হয়েছিলেন জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার হান লে জানিয়েছেন, অভ্যুত্থানবিরোধী সংগ্রাম থেকে পিছু হটবে না তার দেশের নাগরিকেরা। অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করা সেনাবাহিনী সাড়ে পাঁচশ’র বেশি বিক্ষোভকারীর প্রাণ কেড়ে নিলেও লড়াই অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
শনিবার ২২ বছর বয়সী এই মডেল থাইল্যান্ডে এক আবেগী বক্তব্য দিয়ে নিজের দিকে সবার নজর টেনে নেন। সেখানে তিনি নিজের দেশের জন্য জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সহায়তার আবেদন জানান। যেদিন তিনি এই আহ্বান জানান সেদিনই তার দেশে ১৪১ বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে জান্তা সরকার। সামরিক শাসকদের স্বার্থপর আর ক্ষমতার অপব্যবহারকারী আখ্যা দেন তিনি।
অভ্যুত্থানের পর থেকেই মিয়ানমারে অস্থিরতা চলছে। প্রতিদিনই রাজপথে চলছে বিক্ষোভ। পালন করা হচ্ছে ধর্মঘট। এই বিক্ষোভ ও ধর্মঘটে অংশগ্রহণকারী অনেকের ওপরই তাজা গুলি চালিয়ে দমন করছে নিরাপত্তা বাহিনী। আক্রান্তের অনেকেই তরুণ। তাদের জন্ম হয়েছে ২০১১ সালে অবসান হওয়া ৫০ বছরের সেনা শাসনের শেষ দিকের বছরগুলোতে।
শনিবারের প্রতিযোগিতার কথা স্মরণ করে মডেল হান লে বলেন, ‘আমি ওই সময়ে আমার আবেগ নিয়ন্ত্রণ করেছিলাম কারণ দুনিয়ার সামনে আমাকে দুই-তিন মিনিটে সবকিছু জানানো দরকার ছিলো।’ তিনি বলেন, আমার কথা বলার দরকার ছিলো। অনেক কেঁদেছিলাম, এমনকি নিজের রুমে ফিরেও অনেক কেঁদেছি। এখন পর্যন্ত মিয়ানমারের কথা বলতে গেলেই আমার অনেক কান্না পাচ্ছে।
হান লে জানান তিনি তার প্রতিযোগিতার মনোনিবেশ করতে পারছিলেন না। আর নিজ দেশে দুর্ভোগে থাকা মানুষগুলোর জন্য তিনি অপরাধী ভাবছিলেন। তিনি বলেন, বিউটি কুইনদের সব সময় হাসতে হয়, প্রত্যেকের সঙ্গে খুব ব্যাক্তিগতভাবে সংযুক্ত থাকতে হয়। আমি এখানে দৈনন্দিন কাজ করে গেলেও খুশি হতে পারছি না, মিয়ানমারে বহু মানুষ মারা যাচ্ছে।
প্রতিযোগিতার প্রতিষ্ঠাতা নাওয়াত ইতসারাগরিসিল জানান জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে হান লে’র কথা বলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার অর্থ হলো তাকে বিদেশেই থাকতে হবে। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে তিনি যদি মিয়ানমারে ফেরত যান, তাহলে তিনি বাড়ি ফিরবেন না, জেলে যাবেন।’















