ঈদুল আজহা উপলক্ষে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় দেখা মিলেছে বিশালাকৃতির একটি ষাঁড়ের। আর্জেন্টাইন ফুটবল খেলোয়াড়ের নাম অনুসারে পশুটির নাম রাখা হয়েছে ‘মেসি’। প্রাণিটি ৮ ফুট দৈর্ঘ্য, উচ্চতা ৫ ফুট। ওজন এক হাজার কেজি বা ২৫ মণ। বঙ্গ ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়টির দাম হাঁকা হয়েছে ৫ লাখ টাকা।
ষাঁড়ের মালিক নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের আঁচলতা গ্রামের খামারি আশরাফুল ইসলাম। ষাঁড়টি দেখতে প্রতিদিন ভিড় জমছে তার বাড়িতে। জানা গেছে, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের গরুর হাট থেকে ৭ মাস আগে এক লাখ ৪০ হাজার টাকায় ষাঁড়টি কিনেছিলেন আশরাফুল ইসলাম। তিনিসহ তার দুই ছেলে গরুটি লালন-পালন করেন। তিনজনই প্রতিদিন গরুর পেছনে সময় দেন।
আশরাফুল ইসলাম জানান, লাল বর্ণের মেসির দাম ৫ লাখ টাকা হাঁকা হলেও ক্রেতারা ষাঁড়টির মূল্য দিতে চাচ্ছেন ৪ লাখ টাকা। সবকিছু ঠিক থাকলে এবারের ঈদে মেসি মাঠ কাঁপাবে বলে ধারণা তার।
মেসি ছাড়াও আশরাফুলের খামারে আরও ৬টি গরু আছে। এর মধ্যে ব্রাহামা জাতের একটি ষাঁড় রয়েছে। এর ওজনও প্রায় এক হাজার কেজি। নাম রাখা হয়েছে ‘কালাচান’।
এদিকে, করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে এবারও কোরবানির ঈদ হওয়ায় হতাশা দেখা গেছে খামারিদের মধ্যে। করোনা পরিস্থিতিতে সামাজিক দুরত্ব ও স্বাস্থ্য বিধি মেনে পশুর হাটে বেচাকেনা নিয়েও শঙ্কায় নন্দীগ্রাম উপজেলার খামারিরা। বর্তমান পরিস্থিতিতে গরুর দাম পাওয়া নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। বেশ কয়েকজন খামারি সংক্রমণের ভয়ে তাদের গরু হাটে না তুলে অনলাইনে ছবি ও বিবরণ দিয়ে বিক্রির চেষ্টা করছেন।
আশরাফুল ইসলাম বলেন, এ জাতের (বঙ্গ ফ্রিজিয়ান) গরু লালন-পালন খুবই কষ্টকর। পরিবারের একজন সদস্যের মতো করে গরু পালন করতে হয়। অনেক শ্রম ও অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। মেসির ওজন হবে প্রায় ১০০০ কেজি। প্রতিদিনই ৩০০ টাকার খাবার দিতে হয়। খাবারের মধ্যে ছোলা, খেসারির ডাল, ভুট্টা, কুঁড়ো, খইল, ভাত ও কাঁচা ঘাস রয়েছে। ৫ লাখ টাকায় গরুটি বিক্রি করা আশা থাকলেও করোনার পরিস্থিতিতে এবার হাটের ওপর ভরসা করতে পারছি না। এ সঙ্কটময় মুহূর্তে দাম নিয়েও সংশয়ে আছি। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক অন-লাইনে গরুর ছবি দিয়ে বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছে।
জানতে চাইলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অরুণাংশ মণ্ডল বলেন, এই উপজেলায় ২ হাজার ২৪৯ টি গবাদি পশুর খামার রয়েছে। এসব খামারে মোট গবাদি পশু রয়েছে ২০ হাজার ৯০০টি। করোনার কারণে এবার পশুরহাটে শারিরিক দূরত্ব বজায় রেখে বেচা-কেনা হবে। এছাড়া অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রি হচ্ছে।















