লেখক: এম আব্দুল হামিদ টিপু
সিলেটের মানুষের একটাই প্রশ্ন: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সিলেট থেকে আন্তর্জাতিক রুট খুলতে চায় না, আবার অন্য কাউকেও খুলতে দেয় না? কিন্তু কেন?
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কেবল নামেই আন্তর্জাতিক নয়। রানওয়ে আছে, টার্মিনাল আছে, ফুয়েলিং সুবিধা আছে, সম্প্রসারণ কাজ চলছে। একসাথে একাধিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা আছে। তারপরও বাস্তবতা কী? বিমান বলে লস, এয়ারক্রাফট সংকট।বিমান বলে সময় উপযুক্ত নয়।
ঠিক আছে, ধরলাম এটা ঠিক । কিন্তু প্রশ্ন হলো, অন্য এয়ারলাইন্স যখন নিজেদের ঝুঁকিতে, নিজেদের বিনিয়োগে, নিজেদের পরিকল্পনায় সিলেট থেকে উড়তে চায়, তখন বাধা কেন?
ফ্লাইদুবাই এসেছিল, বন্ধ করতে হয়েছে। এয়ার আরাবিয়া স্লট পেয়েও টিকতে পারেনি। এমিরেটস আগ্রহী। ইন্ডিগো আগ্রহী।
তাহলে সমস্যা কোথায়? সমস্যা একটাই, একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ। আর সেই নিয়ন্ত্রণের বোঝা বইছে সিলেটবাসী।
সিলেট মানেই প্রবাস। যুক্তরাজ্য, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকায় অসংখ্য পরিবার সরাসরি সংযুক্ত। অথচ ম্যানচেস্টার বা লন্ডনে যেতে হলে অনেক সময় ঢাকায় দৌড়াতে হয়। অতিরিক্ত ভাড়া, অতিরিক্ত সময়, অতিরিক্ত হয়রানি।
এদিকে ম্যানচেস্টার রুট বন্ধের গুঞ্জন চলছে। লন্ডন রুট ও সীমিত। কিন্তু কেন? যদি বিমান নিজেরাই পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে না পারে, তাহলে বাজার খুলে দিক । প্রতিযোগিতা আসুক। দাম কমুক। সেবা বাড়ুক। রাষ্ট্রের রাজস্ব বাড়ুক। প্রবাসীরা উপকৃত হোক। পর্যটন বাড়ুক।এটা তো শত্রুর লাভ নয়, এটা দেশের লাভ।
এক সময় সিলেটের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ অনেকেই ম্যানচেস্টার রুটে বিমান চলাচল বন্ধ ঠেকাতে সরব ছিলেন । জনাব চৌধুরী এখন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী। প্রশ্ন হচ্ছে ! এখন ও কি তিনি নীতিগত একই অবস্থান নেবেন?
আর সিলেটের ১৯ টি আসনের জনপ্রতিনিধিরা? আপনাদেরকে সিলেটবাসি রাজনৈতিকভাবে যে বড় সমর্থন দিয়েছে, তার প্রতিদান কি অবহেলা?
মনে রাখবেন! এটা কেবল আবেগ নয়। এটা অর্থনীতির প্রশ্ন। সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট মানে রেমিট্যান্স প্রবাহ সহজ হওয়া, পর্যটন শিল্পের বিস্তার, স্থানীয় কর্মসংস্থান, বিমানবন্দরের আয় বৃদ্ধি, আঞ্চলিক উন্নয়নের ভারসাম্য
কোন যুক্তিতে এই সম্ভাবনাকে আটকে রাখা হবে? যদি সত্যিই রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থার লোকসানের ভয় থাকে, তাহলে তাকে প্রতিযোগিতায় সক্ষম করুন। দক্ষতা বাড়ান। ব্যবস্থাপনা সংস্কার করুন। কিন্তু বাজার বন্ধ করে রাখবেন কেন?
আমাদের দাবী স্পষ্ট:
১. সিলেটকে ওপেন স্কাই পলিসির আওতায় আনা হোক । ২. আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সকে স্বচ্ছ নীতিতে স্লট বরাদ্দ দেয়া হোক। ৩. নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্ত জনসমক্ষে প্রকাশ করা হোক ।
শেষ কথা, একটা শহরকে আটকে রাখা যায়, কিন্তু তার সম্ভাবনাকে না। একটা বিমান সংস্থা সিদ্ধান্ত নিতে পারে, কিন্তু জনগণের ইচ্ছাকে চিরদিন দমন করতে পারে না।
সিলেটের আকাশ খোলা হোক। প্রতিযোগিতায় আসুক সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ।প্রবাসীদের যাতায়াত সহজ হোক, বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পাক ।
কবে হবে এই সমস্যার সমাধান? প্রশ্ন এখন সরকারের কাছে । উত্তরও তাদেরই দিতে হবে।
লেখক: এম আব্দুল হামিদ টিপু (যুক্তরাজ্য প্রবাসী আইনজীবী ও সাংবাদিক) ।














