ব্রিটিশ রাজবধূ মেগান মার্কেল নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে জনরোষে পড়েছিলেন যুক্তরাজ্যের জনপ্রিয় টিভি উপস্থাপক পিয়ার্স মরগান। তিনি ‘গুড মর্নিং ব্রিটেন’ নামে একটি জনপ্রিয় টিভি-শো সঞ্চালনা করতেন। তাকে নিয়ে ওঠা বিতর্কের মুখে অনুষ্ঠানটি ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তীব্র জনরোষে পড়ায় মরগান নিজেকে তারই অনুষ্ঠান থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। মেগানকে নিয়ে মন্তব্যের কারণে মরগানের বিরুদ্ধে ৪১ হাজারের বেশি অভিযোগ পড়েছিল। পরে ব্রিটিশ গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামে। তদন্ত শেষে ইচ্ছাকৃভাবে ওই মন্তব্য করায় সেটিকে অপরাধ গণ্য করে সংস্থাটি।
আইটিভি নামে ব্রিটিশ এক টেলিভিশন চ্যানেলে ‘গুড মর্নিং ব্রিটেন’ নামে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করতেন পিয়ার্স মরগান। টিভি চ্যানেলটির এক মুখপাত্র বিবিসিকে জানিয়েছেন, ‘আইটিভির সাথে আলোচনার পর মরগান জানিয়েছেন, গুড মর্নিং ব্রিটেন শো থেকে তার বের হয়ে যাওয়ার সময় হয়েছে। কর্তৃপক্ষও সেটির অনুমোদন দিচ্ছে, এটি নিয়ে নতুন করে আর ভাবার অবকাশ নেই।’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ বিবিসিকে জানিয়েছে, শো বন্ধ হওয়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে তাদের উপর। তবে বুধবারে এই শো’টি কে করবে সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে তারা।
এর আগে গত রোববার জনপ্রিয় মার্কিন উপস্থাপক অপরাহ উইনফ্রেকে বিশেষ এক সাক্ষাৎকার দেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের পুত্রবধূ মেগান মার্কেল। যেখানে প্রাসাদ জীবনে নিজের অনেক অপ্রিয় অভিজ্ঞতা–অনুভূতির কথা ব্যক্ত করেন তিনি। সেখানে বর্ণবাদের অভিযোগ এনে মেগান বলেন, তার সাথে এতটাই বর্ণবাদী আচরণ করা হয়েছিল, তিনি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন এবং আত্মহত্যার চেষ্টাও করেন।
ওই সাক্ষাৎকারে মেগান আরও বলেন, রাজপ্রাসাদে থাকা নিজের জন্য অসহনীয় বোঝা হয়ে উঠলে তিনি বাকিংহাম প্যালেসের মানবসম্পদ বিভাগের সহায়তা চান। এ সময় তাকে বলা হয়, তিনি প্রতিষ্ঠানটির সদস্য নন। তাই তাকে অন্য কোথাও সহায়তা চাইতে হবে। এ ঘটনা তাকে মারাত্মকভাবে আহত করে। এমন নানাবিধ ঘটনায় তিনি নিজেকে সেখানকার অবহেলিত ও উপেক্ষিত একজন ভাবতে থাকেন। যা তাকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেয়।
ওই ঘটনাকে নিয়ে রাজপ্রাসাদের হয়ে একপাক্ষিক কথা বলেন মরগান। তিনি বলেন, ‘আপনাকে বলতে হবে আপনি কেন গিয়েছিলেন? কার কাছে গিয়েছিলেন? আপনাকে তারা কী বলেছিল? আপনি যে গিয়েছেন তার প্রামণ কী?’ এসময় মেগান ব্রিটিশ রাজ পরিবারকে প্রশ্নবিদ্ধ ও ছোট করতে এ ধরণের অসত্য তথ্য ছড়াচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন ওই টেলিভিশন উপস্থাপক।















