চ্যান্সেলরের লাল বাক্সে রাখা বাজেটে কী আছে, তার প্রায় অধিকাংশ আগে থেকেই জানা ছিল। গত কয়েকদিনের সংবাদে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বিস্তর। তবে বুধাবার পার্লামেন্টে প্রস্তাবিত বাজেটে জনগণের অর্থ কিভাবে ব্যয় করা হবে, তার একটা সম্পূর্ণ চিত্র ফুটে উঠেছে। দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির চিত্র এবং বাজেটের পর আমাদের সবার পকেটে কি পরিমাণ অর্থ আসবে, তার একটা ধারনা পাওয়া গেছে বাজেটে। তবে বাজেট শুরু করার আগে চ্যান্সেলরকে কিছুটা খোঁচা দিয়ে তার বাজেট উপস্থাপন করতে বলেন।
একটা সতর্কতা আগে থেকেই দেয়া হচ্ছিল, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়ে ৪ শতাংশ হতে পারে। কিন্তু ধারনার চেয়ে অর্থনীতির ভবিষ্যৎ এখন বেশী উজ্জ্বল দেখা যাচ্ছে। এর মানে হলো, সরকারের তরফ থেকে বাজেটে বরাদ্দ বাড়ছে।
এনএইচএস এর বাজেট বাড়ানো হবে, সরকারি চাকুরীজীবীদের বেতন বৃদ্ধির জন্য বরাদ্দ বাড়বে, অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচলে ট্যাক্স কমানো সহ পরিবহন খাতে ব্যয় বৃদ্ধি করা হবে। যদিও গ্লাসগোতে অনুষ্ঠেয় জলবায়ু সম্মেলনের ঠিক আগে অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচলে কর কমানোর বিষয়টি সমালোচিত হচ্ছে। কারণ বিমান চলাচলে উৎসাহ দিলে পরিবেশের ক্ষতি হয়।
অনেকের খাতের ব্যবসায়ীদের মতো এলকোহল খাতের ব্যবসায়ীরা বাজেটের ঘোষণায় খুশি হবেন। কারণ স্পারক্লিং ওয়াইন রেইট কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া পাবে ড্রাফট পাইন্ট এর ট্যাক্স কমানো হয়েছে। সরকার বলছে, এতে কোরে প্রতি পাইন্ট বিয়ারে ৩ পেন্স এবং ফ্রুটি সাইডারে ১৩ পেন্স পর্যন্ত সাশ্রয় হবে। এলকোহলের ওপর ট্যাক্সের ধরনও পরিবর্তন হচ্ছে। এলকোহলের উপাদানের ওপর এটি নির্ভর করবে। ফলে রোজি ওয়াইন সহ অনেক ড্রিঙ্কের দাম কমবে।
এদিকে ইউনিভার্সের ক্রেডিটের সাপ্তাহিক অতিরিক্ত ২০ পাউন্ড পেমেন্ট বন্ধ হয়ে যাবার পর চ্যান্সেলর নতুন একটা সহায়তা প্রস্তাব করেছেন। তবে এটি কেবল যারা এমপ্লয়েড, তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। একটি নির্দিষ্ট অংকের উপার্জনের বেশী উপার্জন করলে প্রতি এক পাউন্ডের বিপরীতে ৬৩ পেন্স করে বেনিফিট কমানোর নিয়ম চালু আছে। নতুন প্রস্তাবে এমপ্লয়েডদের ক্ষেত্রে এই হার ৬৩ পেন্স না হয়ে ৫৫ পেন্স হিসেবে গণনা করা হবে।
তবে চ্যারিটি সংস্থাগুলো বলছে, ৮ পেন্স কম কেতে নিয়েও সাপ্তাহিক ২০ পাউন্ডের ক্ষতি আসলে পোষায় না। এদিকে গ্যাস সহ অন্যান্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোগুলো তাদের উদ্বেগ প্রকাশ অব্যাহত রেখেছে।
লেবার নেতা কোভিড পজিটিভ হওয়ায় বুধবার শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তে বাজেট উপস্থাপনে সময় লেবার দলের নেতৃত্ব দেন শেডো চ্যান্সেলর রেচেল রীভস।
বাজেটের বিস্তারিত যত প্রকাশ হবে, আগামী কয়েক দিন এ বিষয়ে আলোচনা ও বিতর্কও ততো বেশী হবে।















