বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো আঞ্চলিক ভার্চ্যুয়াল হাইব্রিড ইভেন্ট আয়োজন করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চ্যুয়ালি এতে যোগ দেন।
শেখ হাসিনা বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি অন্যান্য খাতের মতো কৃষি খাতেও প্রভাব ফেলেছে। ২০২০ সালে মহামারির প্রাথমিক পর্যায়ে উৎপাদক ও ভোক্তা উভয়ের মধ্যে সরবরাহ শৃঙ্খলা ব্যাহত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তবে আমাদের সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপ দ্রুত এ খাতকে পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করেছে। আমরা খাদ্য উৎপাদন ও কৃষি উপকরণ সরবরাহ যাতে বাধাগ্রস্ত না হই, সে জন্য যান্ত্রিকীকরণসহ বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ মহামারিজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মানুষ যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে ছিল এবং কীভাবে মানবজাতি একসঙ্গে কাজ করে, এ ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে, তা–ও এ মহামারি শিখিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘খাদ্যনিরাপত্তা অবশ্যই মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ৩০৫ দশমিক ৭ মিলিয়ন মানুষ এখনো ক্ষুধায় ভুগছে। আমরা সবাই আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলে তাদের জন্য সহজে খাবারের ব্যবস্থা করতে পারি।’
সম্মেলনে বাংলাদেশের কৃষি খাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদিও দেশে জিডিপিতে কৃষি খাতের আপেক্ষিক গুরুত্ব হ্রাস পাচ্ছে, কিন্তু নিরঙ্কুশ অবদান কমেনি; বরং বেড়েছে। ২০০৫-২০০৬ থেকে কৃষি জিডিপি ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ভাগ কমে যাওয়া সত্ত্বেও কৃষি এখনো কর্মসংস্থানের প্রধান উৎস; শ্রমশক্তির ৪০ শতাংশের জীবিকা নির্বাহ হয়ে থাকে এ খাতে।
বাংলাদেশ গত ১৩ বছরে চাল, শাকসবজি, ফল, মাছ, মাংস, ডিম ও দুধ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর দেশ ধান উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে এবং বছরে প্রায় ৩৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন ধান উৎপাদন করে। বিশ্বে পাট ও স্বাদুপানির মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়, ধান ও সবজি উৎপাদনে তৃতীয় এবং চা উৎপাদনে চতুর্থ স্থানের পাশাপাশি ১১টি ইলিশ মাছ উৎপাদনকারী দেশের মধ্যে প্রথম অবস্থানে রয়েছে।
‘এসব সাফল্য সত্ত্বেও আমরা বুঝতে পারি যে আমাদের প্রকৃত অর্থে খাদ্য ও পুষ্টির নিরাপত্তার জন্য আরও কিছু করতে হবে। এর কারণ, এসব খাতে প্রকৃতি ও জলবায়ু সম্পর্কিত অস্বাভাবিকতা বিদ্যমান’—বলেন প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন টেকসই কৃষির জন্যও বড় হুমকি।
‘আসুন আমরা বিশ্বশান্তি, নিরাপত্তা এবং মানবতার কল্যাণের জন্য একসাথে এমন একটি বিশ্ব গড়ে তুলি; যা দারিদ্র্য, ক্ষুধা, যুদ্ধ এবং মানুষের দুর্ভোগ নির্মূল করতে পারে’—১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের ২৯তম অধিবেশনে জাতির পিতার দেওয়া ভাষণের এ উদ্ধৃতি প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী এফএওর এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের ৩৬তম আঞ্চলিক সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন















